স্টাফ রিপোর্ট
দুর্বল স্মৃতিশক্তি হলো তথ্য সঞ্চয় এবং তা মনে করার ক্ষেত্রে অসুবিধার সম্মুখীন হওয়া। কোনো ব্যক্তিরই সারা জীবন নিখুঁত স্মৃতিশক্তি স্থায়ী হয় না। বার্ধক্যজনিত স্মৃতিশক্তি লোপের ঘটনা সাধারণ ব্যাপার। তবে আপনি যদি গাড়ি চালানো, যেখানে সারা জীবন ধরে রয়েছেন বাড়ি ফেরার সেই রাস্তার মতো তথ্য ভুলে যান, তাহলে এই স্মৃতিশক্তি হ্রাস চিন্তার বিষয়। এক্ষেত্রে চিকিৎসা নেওয়া খুব জরুরি।
লক্ষণ ও উপসর্গ – বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা সাধারণ ঘটনা। তবে নিম্নলিখিত উপসর্গগুলো দেখা গেলে বুঝতে হবে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। যেমন- একই প্রশ্ন বারবার জিজ্ঞাসা করা। এ ছাড়া নির্দেশ অনুসরণে অসুবিধা, চেনা লোকজন ও চেনা জায়গা সম্পর্কে বিভ্রান্তি, একটি পরিচিত জায়গার দিক ভুলে যাওয়া। পাশাপাশি সাধারণ কথোপকথনে অসুবিধা, জরুরি মিটিং এবং কাজকর্মে যোগ দিতে ভুলে যাওয়া এবং একই বয়সের অন্যান্য ব্যক্তির তুলনায় বেশি স্মৃতিশক্তিজনিত সমস্যায় পড়া।
কারণ কী – বিভিন্ন কারণে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতে পারে। এর মধ্যে বার্ধক্য এটি সাধারণ ব্যাপার। বয়স বাড়লে স্মৃতিশক্তি স্বাভাবিকভাবে কমে আসে। এ ছাড়া অ্যালজাইমার রোগ, স্ট্রোক, মস্তিষ্কে টিউমার এবং মানসিক অবসাদের কারণে স্মৃতিশক্তি কমে যেতে পারে। পাশাপাশি মস্তিষ্কে আঘাত পেলেও অনেক ক্ষেত্রে স্মৃতিশক্তি কমে। কিছু ওষুধ আছে যেগুলো ব্যবহার করলেও এটা হতে পারে।
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা – দুর্বল স্মৃতিশক্তির কারণগুলো শনাক্ত করার সঙ্গে এর রোগ নির্ণয় যুক্ত। বিভিন্ন পদ্ধতিতে রোগ নির্ণয় করা যায়। যেমন- শারীরিক পরীক্ষা ও ল্যাবরেটরি টেস্ট। এ ছাড়া সাইক্রিয়াটিক এভলিউশন টেস্টের সাহায্যে চিন্তা-ভাবনার পরিবর্তন চিহ্নিত করা যায়। মস্তিষ্কের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই করেও রোগ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। স্মৃতিশক্তি দুর্বলতার কারণ বার্ধক্য, নাকি কোনো রোগ- এই পরীক্ষাগুলো সেই সিদ্ধান্তে আসতে সাহায্য করে।
চিকিৎসা পুরোপুরি স্মৃতিশক্তি দুর্বলতার কারণগুলোর ওপর নির্ভর করে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্মৃতিভ্রংশের কোনো প্রতিকার নেই। তবে ডোনেপেজিল, রিভাস্টিগমাইন, মেমান্টাইন ও গ্যালান্টামাইনের মতো ওষুধগুলো সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
ঘরোয়া সমাধান – হলুদ গুঁড়া এবং গোলমরিচ গুঁড়া মিশিয়ে খেলে স্মৃতিশক্তি চাঙ্গা হয়। যারা মাছ খান, তাদের স্মৃতিশক্তি অন্যদের তুলনায় কিছুটা শক্তিশালী হয়। কারণ এতে আছে ওমেগা ৩-এর মতো উপাদান। গবেষণায় দেখা গেছে, টেলিভিশন বেশি দেখলে স্মৃতিশক্তি কমে যায়। তাই টিভি কম দেখুন।