প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ৪, ২০২৫, ২:৫৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ২২, ২০২৫, ৪:৫২ পি.এম
লংগদুতে তামাক চুল্লীতে কিশোরী ধর্ষণ, ধর্ষক গ্রেফতার।

মোঃ এরশাদ আলী, লংগদু (রাঙামাটি)।
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তামাকের চুল্লীতে রাতভর চৌদ্দ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ করেন দুই বাচ্চার বাবা প্রতিবেশী যুবক মনির হোসেন(৩০)।
ধর্ষক মনির হোসেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার লংগদু উপজেলাস্থ ১নং আটারকছড়া ইউনিয়নের তিনব্রীজ বটতলা এলাকার, মোঃ আমির হোসেনের ছেলে।
কিশোরীর বাবা জানায়, বুধবার রাতে হটাৎ করে মেয়েকে বাসায় খুঁজে না পেয়ে প্রতিবেশী মনিরের বাসায় যাই। সেখানে গিয়ে মেয়েকে খোঁজ করলে মনিরের স্ত্রী বলে আপনার মেয়ে আসেনি, আমার স্বামী তামাক ক্ষেতে আছে। তখন সন্দেহ হলে, আমি তামাক ক্ষেতে খুঁজতে গেলে মনির মানুষ-জন দেখে পালাতে চেষ্টা করে, পরে এলাকার লোকজন তাকে আটক করেন। আটক পরবর্তী মানুষের জিজ্ঞাসাবাদে মনির কিছুই বলতে চাচ্ছিলেন না। অতঃপর স্থানীয়দের চাপে মনির জানায়, কিশোরী তামাকের চুল্লীর ঘরে আছে। পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন মেয়েটিকে তামাক চুল্লীর ঘর থেকে শ্লীলতাহানি অবস্থায় উদ্ধার করেন।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে মামলা না করার পরামর্শ দেয়, এলাকায় বসে সমাধান করার কথা বলে। রাতে আমি থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করলে ধর্ষককে সু-কৌশলে
পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় মাতাব্বরের সহযোগিতায় শুক্রবার রাত সাড়ে বারোটায় ধর্ষক মনিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
থানা পুলিশ সুত্রে জানাযায়,এবিষয়ে রাতেই থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে ধর্ষককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ধর্ষক মনিরকে আটক করা হয়েছে এবং মামলা রুজু করে আদালতে প্রেরণ ও ভিকটিমকে পরিক্ষা নিরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এবিষয়ে ভিকটিম জানায়,প্রতিবেশী মনির আংকেলের স্ত্রী আমার সাথে মনিরের সম্পর্ক আছে এমনটা আমার বাবাকে বলবে বল্লে আমি ভয়ে তামাক ক্ষেতে পালাই। কিছুক্ষণ পর ধর্ষক আমাকে তামাক ক্ষেতে দেখতে পেয়ে জোর করে গভীর তামাক ক্ষেতের মাঝখানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আমাকে ভয়ভীতি দেখায়। এক পর্যায়ে চট্টগ্রাম নিয়ে আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তামাকের চুলায় গামছা বিছিয়ে জোর পূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরক্ষণে আমার পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি আরম্ভ করলে মনির আমাকে তামাক চুলায় রেখে পালিয়ে যায়।
লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফেরদৌস ওয়াহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কিশোরীর বাবা রাতে থানায় আসলে ধর্ষককে গ্রেফতার করতে পুলিশ ঘটনা স্থলে যায়, কিন্তু আসামী পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে ধর্ষককে গ্রেফতার করা হয়। ধর্ষককে আইনী প্রক্রিয়ায় আদালত সোপর্দ করা হবে এবং কিশোরীকে মেডিকেল করার প্রক্রিয়া চলছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত