স্টাফ রিপোর্ট।
দেশের জনপ্রিয় শিল্পীরা দেশে থাকতে চায় না।
দীর্ঘদিন কাজ করে টাকা-পয়সা হলে বিদেশে পাড়ি জমায়।
সরকারী কর্মকর্তারা সুযোগ পেলে দেশ ছেড়ে চলে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সুযোগ পেলে দেশ ছেড়ে চলে যায়। অনেক শিক্ষক বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গিয়ে ফিরে না। ফিরতে চায় না।
ডাক্তাররা দেশ ছেড়ে চলে যায়। বুয়েটের প্রায় ষাটভাগ ইঞ্জিনিয়ার দেশে থাকে না। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে অনেকেই বিদেশেই স্থায়ী হয়। রাজনীতিবিদের অনেকেই সন্তানদের দেশে পড়ায় না। বিদেশে পাঠিয়ে দেয়।
কেউ বলে সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য। কেউ বলে শেষ বয়সে একটু শান্তির জন্য। কেউ বলে পরিবার-পরিজনের জন্য। কেউ বলে সততার সাথে বাঁচার জন্য। কেউ বলে আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য। কেউ বলে যোগ্যতার সুবিচার পাওয়ার জন্য। কেউ বলে উচ্চশিক্ষার জন্য। কেউ বলে সৎভাবে উপার্জন করে বাঁচার জন্য। কেউ বলে ধর্মীয় রোষানল থেকে মুক্তির জন্য।
আপনি যদি আপনার চারপাশের মানুষদের নিয়েই একটা জরিপ করেন, দেখবেন ৮০ শতাংশ মানুষ সুযোগ পেলে দেশ ছাড়তে চাইবে।
তাহলে ৫৪ বছরে আমরা কেমন সমাজ তৈরি করলাম যেখান থেকে সবাই পালাতে চায়! মানুষের ভিতর একটা উর্ধ্বশ্বাস! একটা দীর্ঘশ্বাস। পালিয়ে বেড়ানোর এক নিরন্তর চেষ্টা —কেন?
সমাজের মধ্যে অনেক ধরনের শক্তি আছে, অনেক ধরনের অগণতান্ত্রিক শক্তিও আছে। সাম্প্রদায়িক শক্তি, নারী বিদ্বেষী শক্তিও রয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি রয়েছে। নাগরিকদের পক্ষ থেকে একটা সতর্ক অবস্থান থাকা দরকার যাতে এই গণঅভ্যুত্থানের উল্টো যাত্রা না হয়। গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যাশা- এর উল্টো যাত্রা হলে সর্বনাশ হবে।
জনস্বার্থবিরোধী দেশি বিদেশি গোষ্ঠী যথেষ্ট তৎপর, নানাভাবে তারা নিজেদের অবস্থান গোছানোর চেষ্টা করছে বা শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। সুতরাং একমাত্র রক্ষাকবচ হচ্ছে নাগরিকদের অধিক সক্রিয় থাকা। নারীদের সোচ্চার অবস্থান, শ্রমিকসহ নাগরিকদের সক্রিয়তা আশা ভরসা দেয়। এটা আরো বাড়াতে হবে তাহলে আমরা সবাই নিরাপদ থাকব। ৫৪ বছরে বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক আকাঙ্খায় দেশের নাগরিকদের সক্রিয়তার উপর নির্ভর করে দেশ নিরাপদ থাকা, অগ্রসর হওয়া। বাংলাদেশ হবে সবার দেশ।
স্বাধীনতা দিবসে ——বিএনপি নেতা, সুনামগঞ্জ ২ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী, ছাত্রদলের প্রাত্তন কেন্দ্রীয় নেতা, ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের বীর সেনানী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।